পৃথিবীতে ৫৫ লাখ প্রজাতির প্রাণ
আকাশে কত তারা আছে তা আমরা গুনে বলে দিতে পারি। কিন্তু এ পৃথিবীতে কত প্রজাতির প্রাণী আছে সেটা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি না। পৃথিবীতে আমরা যাদের সঙ্গে বসবাস করছি তাদের সংখ্যা কয়েক কোটি নয় বরং কয়েক লাখ। আরও খানিকটা নির্দিষ্টভাবে বললে সেই সংখ্যাটা হবে প্রায় ৫৫ লাখ।
মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. এন্ড্রু হ্যামিলটনের নেতৃত্বাধীন একটি গবেষক দল নতুন এক সমীৰায় সর্বশেষ ওই সংখ্যাটি নির্ণয় করেছেন। বিশ্বের প্রাণীজগতের মধ্যে সংখ্যার দিক দিয়ে সবচেয়ে বড় ও জটিল প্রজাতির প্রাণী হলো গ্রীষ্মম-লীয় অঞ্চলের কীটপতঙ্গ। এদের সংখ্যা নির্ণয়ের নতুন এক পদ্ধতি প্রয়োগ করে যে ফলাফল পাওয়া গেছে তার ভিত্তিতে বের করা হয়েছে তাবত প্রজাতির সংখ্যা। প্রাণী সংরৰণের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে এই সমীৰার তাৎপর্য বিশাল।
ড. হ্যামিলটনের মতে পৃথিবীর সব প্রজাতির সংখ্যা নির্ণয়ে আমাদের এতদিনের চেষ্টা সর্বদাই একটা নির্দিষ্ট প্রজাতির কারণে বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে, যার জন্য সংখ্যার সুস্পষ্ট চিত্রটা কখনও পাওয়া যায়নি। সেই প্রজাতিটা হলো উষ্ণম-লীয় সন্ধিপদ প্রাণী। এর মধ্যে আছে কীটপতঙ্গ, মাকড়সা, উকুন ও এ জাতীয় অন্যান্য প্রাণী। এতদিন এদের সংখ্যা কয়েক লাখ থেকে ১০ কোটি পর্যনত্ম নিরূপণ করা হয়েছিল। নতুন সমীৰায় ড. হ্যামিলটনের দল এমন এক মডেলকে ব্যবহার করেছে যা প্রায়শই আর্থিক ঝুঁকি নিরূপণের কাজে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। গবেষক দল লৰ্য করেন যে, উষ্ণম-লীয় সন্ধিপদ প্রাণীর প্রজাতির সংখ্যা ২০ লাখ থেকে ৭০ লাখের মধ্যবর্তী কোন এক জায়গায় হবার সম্ভাবনা শতকরা ৯০ ভাগ। তবে সর্বোত্তম হিসেবটা হলো ৩৭ লাখ।
এই ৩৭ লাখের সঙ্গে প্রায় ৫০ হাজার মেরম্নদ-ী প্রাণী (পাখি, সত্মন্যপায়ী, উভচর ও সরীসৃপ) ৪ লাখ প্রজাতির উদ্ভিদ এবং সম্ভবত ১৩ লাখ অন্যান্য জীব (অধিকাংশ ৰেত্রে সেগুলো ৰুদ্রাতিৰুদ্র জীবাণু। তবে তার মধ্যে ব্যাকটেরিয়া অনত্মর্গত নয়) রয়েছে। এতে করে দেখা যায় যে, সর্বোত্তম হিসাবে আমরা আমাদের চারপাশে ৫৫ লাখ প্রজাতির প্রাণকে সঙ্গে নিয়ে এই পৃথিবীর বুকে বসবাস করছি। সমীৰায় আরও দেখা যায় যে পৃথিবীতে মোট ৩ কোটি প্রজাতির প্রাণের বসবাস রয়েছে বলে প্রায়শ যে তথ্যের উদ্ধৃতি দেয়া হয় সেটা সত্য হবার সম্ভাবনা হলো দশমিক এক শ' ভাগের এক ভাগ মাত্র।
চলতি বছর হলো আনত্মর্জাতিক প্রাণবৈচিত্র্যের বছর। এ বছরটিতে এমন এক সমীৰার তাৎপর্য অপরিসীম। সমীৰাটি প্রাণের বিলুপ্তির হার পরিমাপের অধিকতর বাসত্মবসম্মত যাত্রাবিন্দু হিসেবে কাজ করবে। প্রাণীর বসবাসের স্থান কতটুকু হারিয়ে গেল সেটা জানার মধ্য দিয়ে সেই প্রাণীর বিলুপ্তির হার নির্ণয় করা হয়ে থাকে। কিন্তু কতগুলো প্রজাতির প্রাণী বিলুপ্ত হয়েছে তা জানতে গেলে প্রথমত আমাদের জানতে হবে এতদিন কত প্রজাতির প্রাণীর অসত্মিত্ব ছিল।
বর্তমানে পাখিদেরকে থেরোপড ডাইনোসরদের একমাত্র জীবিত বংশধররূপে গণ্য করা হয়। গতানুগতিক শ্রেণীবিন্যাসবিদ্যায় পাখিদের ডাইনোসর থেকে বিবর্তিত একটা আলাদা শ্রেণী বলে মনে করা হত। অবশ্য ডাইনোসর নিয়ে আগ্রহী সাম্প্রতিক জীববৈজ্ঞানিকদের অধিকাংশই গতানুগতিক পদ্ধতির পরিবর্তে জাতিজনি নামকরণের পক্ষ সমর্থন করেন। এই পদ্ধতি অনুযায়ী কোনো প্রাণী বা উদ্ভিদ বিভাগের সমস্ত উত্তরপুরুষ ঐ বিভাগের সদস্য হিসেবে গণ্য হয়। পাখিরা তাই ডাইনোসর,আর সেই সূত্রেই ডাইনোসরেরা বিলুপ্ত নয়, জীবিত। পাখিদের ম্যানির্যাপ্টোরা অধঃবিভাগের অন্তর্গত মনে করা হয়; ম্যানির্যাপ্টোরা বর্গটি সিলুরোসরাসদের অন্তর্গত; সিলুরোসরাসরা এক প্রকার থেরোপড, থেরোপডরা এক প্রকার সরিস্কিয়ান এবং সরিস্কিয়ানরা এক প্রকার ডাইনোসর[১৩]। কিন্তু সাধারণের বক্তব্য ধর্তব্যের মধ্যে আনলে ডাইনোসরের মধ্যে পাখিদেরকে বাদ দিতে হয়। স্পষ্টতার খাতিরে এই নিবন্ধে, "ডাইনোসর" শব্দটি বলতে "উড়তে অক্ষম ডাইনোসর"-দের বোঝানো হবে এবং "পাখি" শব্দটি "উড়তে সক্ষম ডাইনোসর"-এর প্রতিশব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হবে। উড়তে সক্ষম ডাইনোসর বলতে আর্কিওপ্টেরিক্স পূর্বপুরুষ থেকে বিবর্তিত এবং আধুনিক পাখিদের সবাইকেই বোঝানো হবে। গুরুত্ব দিয়ে কোন বিষয় উল্লেখ করতে হলে "উড়তে অক্ষম ডাইনোসর" শব্দটিই ব্যবহৃত হবে।
টির্যানোসরাস রেক্স এবং ট্রাইসেরাটপস-এর মধ্যে যে লড়াইগুলো খুব সম্ভবত ক্রিটেশিয়াস যুগে নৈমিত্তিক ব্যাপার ছিল, সেগুলো এখন জনপ্রিয় বিজ্ঞান ও জনসমাজে ডাইনোসর সংক্রান্ত আলোচনার বিরাট অংশ জুড়ে আছে।





No comments