বাংলা ছবির গান যে গুলো আজও মানুষের মন কেড়ে নেয়
ঈদের টিভি অনুষ্ঠানের মধ্যে তুলনামূলক নতুন সংযোজন সরাসরি গানের
অনুষ্ঠান। সম্ভবত এটি শুরু করেছিল একুশে টিভি, এখন সবাই করছে। রাত ১২টার
দিকে শুরু হয়ে চলে মধ্য রাত পর্যন্ত। গত ঈদে তো আইয়ুব বাচ্চু ভোর সাতটা
পর্যন্ত গান গেয়েছিলেন। এবার আবার দেশটিভি কোলকাতা থেকে চন্দ্রবিন্দু ও
দোহার ব্যান্ড এনে গান শুনালো।
গতরাতে ছিল সামিনা ও ফাহমিদা-দুই বোনের গান। আমি আবার সামিনার বিশাল বিশাল ভক্ত। দুই বোন একসঙ্গে গাইল তুমি কখন এসে দাঁড়িয়ে আছো..... মাহমুদুন নবীর সেই বিখ্যাত গান। অসাধারণ একটা গান, তার দুই মেয়ে গাইলোও অসাধারণ। গানটা শুনতে শুনতে ভাবছিলাম সেরা বাংলা গান কোনগুলো? বিশেষ করে সিনেমার।
একবার সামুতে একটা লিস্ট করেছিলাম, তবে সেটা সবচেয়ে প্রিয় ১০ গানের তালিকা ছিল না। তখন মাত্র নতুন গান ডাউনলোড করা শিখছিলাম। ফলে হাতে কাছে যেগুলো ছিল তার একটি তালিকা ছিল। ভাবলাম নতুন একটা তালিকা দেই। তবে ১০টাই সিনেমার গান না। দুটো সিনেমার গান না।
১. ওরে নীল দরিয়া আবদুল জব্বারের এই অসাধারণ গানটি মনে হয় আমার বিচারে সেরা বাংলা
চলচ্চিত্রের গান। মজার ব্যাপার হল এই গানটি কোনো জাতীয় পুরস্কার পায়নি।
২. এক হৃদয়হীনার কাছে হৃদয়ের দাম কি আছে- রফিকুল আলমের গাওয়া সেরা গান এটি। কোনো চলচ্চিত্রে ব্যবহার হয়নি। অসাধারণ একটা গান
৩. তুমি কখন এসে দাঁড়িয়ে আছো-আমার কাছে সেরা রোমান্টিক গান মাহমুদুন নবীর এই গানটি। অসাধারণ কথা, তেমনই সুর ও গায়কী।
৪. বিমূর্ত এই রাত্রি আমার--আবিদা সুলতানার জীবনে আর কোনো গান না গাইলেও চলতো। এই একটি গান তাকে অমর করে রাখবে। সীমানা পেরিয়ের বিখ্যাত সেই গান।
৫. কত কানলাম কত ডাকলাম আইলা না- তপন চৌধুরী এখন আমেরিকা থাকে। দেশে আসার পর মাস খানেক আগে একটা টিভি অনুষ্ঠানে এই গানটা গাইলেন। আগের সেই যাদু নেই, তারপরেও শুনতে অসাধারণ লাগলো। ভাত দে ছবির গান।
৬. যে ছিল দৃষ্টির সীমানায়-শাহনাজ রহমতউল্লাহর এই অসাধারণ গানটি বার বার শুনেও মন ভরে না। এটিও কোনো চলচিত্রে ব্যবহার হয়নি। সম্প্রতি আবার নতুন করে এই গানটি তিনি আবার গেয়েছেন। পুরানোটাই অসাধারণ
৭. একবার যদি কেউ ভালবাসতো-সামিনা নবী অনেক কম বয়সে এই গানটি গেয়েছিলেন। আর আমার তালিকায় সামিনা থাকবে না তা হতেই পারে না। জন্ম থেকে জ্বলছি সিনেমার গান।
৮. তুমি কি দেখেছো কভু জীবনের পরাজয়- আবদুল জব্বারের এই গানটাও অসাধারণ। এতটুকু আশা ছবির গান সম্ভবত। তবে ভাবছিলাম এর পরিবর্তে সুবীর নন্দীর কত যে বেসেছি ভাল এই রোমান্টিক গানটা দেবো কীনা। ভাবছি। উসিলা ছবির গান।
৯. আয় রে আয় মেঘ আয়-এইচএসবিসির শতবর্ষের গানের অনুষ্ঠানে এই গানটি গেয়েছিল রুনা লায়লা। এখনও শুনতে অসাধারণ লাগলো। বরং মনে হলো আগের চেয়ে অনেক ভাল। দি রেইন ছবির গান।
১০. পথে পথে দিলাম ছড়াইয়া-কলিম শরাফীর এই গানটা যত শুনি ততই ভাল লাগে। সম্ভবত নদীও নারী ছবিতে এটা ব্যবহার করা হয়েছিল। আবার মনে হচ্ছে রথীন্দ্রনাথ রায়ের গাওয়া ফকির মজনু শাহ ছবির সবাই বলে বয়স বাড়ে আমি বলি কমে রে গানটা দিয়ে দেই। অসাধারণ একটা গান।
ব্রিটিশ আমল থেকেই ঢাকার বিভিন্ন হোটেল ও নবাব পরিবারের আমন্ত্রণে
ব্রিটিশ ব্যান্ড ও সঙ্গীত তারকাদের ঢাকায় গান পরিবেশনের খবর পাওয়া যায়।
পাক-ভারত বিভক্তির পরে ১৯৬৩ সালের ১৮ মার্চ ঢাকার সেন্ট গ্রেগরিজ স্কুলের
এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রথম ব্যান্ড ধাঁচের গানের খবর পাওয়া যায়। সেই
অনুষ্ঠানে ১৭ বছর বয়সী কিশোর টেলফার জনসন গিটার বাজার আর ক্লিফ রিচার্ডের
গান পরিবেশন করেন। একই স্কুলের নবম শ্রেণীতে পড়ূয়া ফজলে রব, আলমগীর
[পরবর্তীকালে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের জনপ্রিয় গায়ক], রফিক ও সাব্বির
ব্যান্ড দল গঠন করেন। বলা হয়, তাদের হাতেই জন্ম নেয় বাংলাদেশের প্রথম
ব্যান্ড আইওলাইটস। হোটেল শাহবাগ
ও ঢাকা ক্লাবে নিয়মিত পারফর্ম করে ব্যান্ড দলটি। ১৯৬৫ সালে প্রথম ব্যান্ড
হিসেবে টিভিতেও পারফর্ম করে ব্যান্ডটি। আইওলাইটসের সমকালীন আরেকটি
ব্যান্ডের জন্ম চট্টগ্রামে। নাম জিংগা শিল্পগোষ্ঠী।
সঙ্গীতবোদ্ধা ও ইতিহাস রচয়িতাদের মতে 'জিংগা' একটি পারিবারিক ঘরানার
ব্যান্ড। কারও কারও মতে, এটি বাংলাদেশের প্রথম ব্যান্ড। এমনকি ইন্টারনেট ও
কোনো কোনো ইতিহাস রচয়িতাও জিংগাকে এ দেশের প্রথম ব্যান্ড বলে থাকেন। তবে
জিংগাকে দেশের প্রথম ব্যান্ড বলার বিশেষ কোনো তথ্য-প্রমাণ মেলে না। এ দলের
গায়ক ওমর খালেদ রুমী পরবর্তীকালে আরেকটি ব্যান্ডের হয়ে বাংলায়
গান করা শুরু করেন। সে বিচারে বলা যায়, তিনিই প্রথম বাংলা গানের
ব্যান্ডশিল্পী। জিংগার পর চট্টগ্রামে জন্ম নেয় আরেক ব্যান্ড লাইটনিংস।
১৯৬৭ সালে ফরিদ রশীদ, নিওম্যান্ডেজ, নোয়েল ও শাকিল গড়ে তোলেন লাইটনিংস ব্যান্ডটি। তাদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মাহমুদ, তোতা, চিত্রনায়ক জাফর ইকবাল ও ফারুক মিলে ব্যান্ড গঠন করেন র্যাম্বলিং স্টেনস। দুটি ব্যান্ডই তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে বিপুল জনপ্রিয়তা পায়। একই বছরে গঠিত হয় উইন্ডি সাইট অব কেয়ার
ব্যান্ড। ১৯৬৮ সালে হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টালে আইওলাইটস, উইন্ডিসাইট অব
কেয়ার, র্যাম্বলিং স্টোনস ও লাইটনিংস একটি প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়।
প্রতিযোগিতায় শ্রেষ্ঠ ব্যান্ড নির্বাচিত হয় উইন্ডি সাইট অব কেয়ার। এ
ব্যান্ডগুলোর পাশাপাশি ১৯৬৬ সালে নারায়ণগঞ্জে জন্ম নেওয়া 'বকলম'
ব্যান্ডটি বেশ জনপ্রিয়তা পায়। ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠা পায় ফায়ার অ্যান্ড আইস
ব্যান্ডটি। ১৯৬৯ সালে প্রথম ভাঙনের কবলে পড়ে র্যাম্বলিং স্টোনস। এ
ব্যান্ডের সদস্যরা আলাদা হয়ে গিয়ে তৈরি করে নতুন ব্যান্ড 'টাইম গো মোশন'।
এরপরই দেশের প্রথম ব্যান্ড আইওলাইটসের ভাঙন ধরে। ড্রামার সাব্বির এবং রিদম
গিটারিস্ট রফিক ব্যান্ড ছেড়ে দেওয়ায় এটি ভেঙে যায়।
গতরাতে ছিল সামিনা ও ফাহমিদা-দুই বোনের গান। আমি আবার সামিনার বিশাল বিশাল ভক্ত। দুই বোন একসঙ্গে গাইল তুমি কখন এসে দাঁড়িয়ে আছো..... মাহমুদুন নবীর সেই বিখ্যাত গান। অসাধারণ একটা গান, তার দুই মেয়ে গাইলোও অসাধারণ। গানটা শুনতে শুনতে ভাবছিলাম সেরা বাংলা গান কোনগুলো? বিশেষ করে সিনেমার।
একবার সামুতে একটা লিস্ট করেছিলাম, তবে সেটা সবচেয়ে প্রিয় ১০ গানের তালিকা ছিল না। তখন মাত্র নতুন গান ডাউনলোড করা শিখছিলাম। ফলে হাতে কাছে যেগুলো ছিল তার একটি তালিকা ছিল। ভাবলাম নতুন একটা তালিকা দেই। তবে ১০টাই সিনেমার গান না। দুটো সিনেমার গান না।
১. ওরে নীল দরিয়া আবদুল জব্বারের এই অসাধারণ গানটি মনে হয় আমার বিচারে সেরা বাংলা
চলচ্চিত্রের গান। মজার ব্যাপার হল এই গানটি কোনো জাতীয় পুরস্কার পায়নি।
২. এক হৃদয়হীনার কাছে হৃদয়ের দাম কি আছে- রফিকুল আলমের গাওয়া সেরা গান এটি। কোনো চলচ্চিত্রে ব্যবহার হয়নি। অসাধারণ একটা গান
৩. তুমি কখন এসে দাঁড়িয়ে আছো-আমার কাছে সেরা রোমান্টিক গান মাহমুদুন নবীর এই গানটি। অসাধারণ কথা, তেমনই সুর ও গায়কী।
৪. বিমূর্ত এই রাত্রি আমার--আবিদা সুলতানার জীবনে আর কোনো গান না গাইলেও চলতো। এই একটি গান তাকে অমর করে রাখবে। সীমানা পেরিয়ের বিখ্যাত সেই গান।
৫. কত কানলাম কত ডাকলাম আইলা না- তপন চৌধুরী এখন আমেরিকা থাকে। দেশে আসার পর মাস খানেক আগে একটা টিভি অনুষ্ঠানে এই গানটা গাইলেন। আগের সেই যাদু নেই, তারপরেও শুনতে অসাধারণ লাগলো। ভাত দে ছবির গান।
৬. যে ছিল দৃষ্টির সীমানায়-শাহনাজ রহমতউল্লাহর এই অসাধারণ গানটি বার বার শুনেও মন ভরে না। এটিও কোনো চলচিত্রে ব্যবহার হয়নি। সম্প্রতি আবার নতুন করে এই গানটি তিনি আবার গেয়েছেন। পুরানোটাই অসাধারণ
৭. একবার যদি কেউ ভালবাসতো-সামিনা নবী অনেক কম বয়সে এই গানটি গেয়েছিলেন। আর আমার তালিকায় সামিনা থাকবে না তা হতেই পারে না। জন্ম থেকে জ্বলছি সিনেমার গান।
৮. তুমি কি দেখেছো কভু জীবনের পরাজয়- আবদুল জব্বারের এই গানটাও অসাধারণ। এতটুকু আশা ছবির গান সম্ভবত। তবে ভাবছিলাম এর পরিবর্তে সুবীর নন্দীর কত যে বেসেছি ভাল এই রোমান্টিক গানটা দেবো কীনা। ভাবছি। উসিলা ছবির গান।
৯. আয় রে আয় মেঘ আয়-এইচএসবিসির শতবর্ষের গানের অনুষ্ঠানে এই গানটি গেয়েছিল রুনা লায়লা। এখনও শুনতে অসাধারণ লাগলো। বরং মনে হলো আগের চেয়ে অনেক ভাল। দি রেইন ছবির গান।
১০. পথে পথে দিলাম ছড়াইয়া-কলিম শরাফীর এই গানটা যত শুনি ততই ভাল লাগে। সম্ভবত নদীও নারী ছবিতে এটা ব্যবহার করা হয়েছিল। আবার মনে হচ্ছে রথীন্দ্রনাথ রায়ের গাওয়া ফকির মজনু শাহ ছবির সবাই বলে বয়স বাড়ে আমি বলি কমে রে গানটা দিয়ে দেই। অসাধারণ একটা গান।
No comments