যশোর জেলার পুরাতন নাম...
যশোর জেলার প্রাচীন ইতিহাস
খুলনা বিভাগের প্রাচীন জনপদ যশোর। কপোতাক্ষ নদের তীরে কবি মাইকেল
মধুসূদন দত্তের জন্মস্থান। নকশিকাঁথা আর জামতলার রসগোল্লার জন্য প্রসিদ্ধ
যশোর। এ ছাড়া এখানে আছে আরো কয়েকটি দর্শনীয় স্থান। যশোরে বিভিন্ন ধরনের
শস্যের ফলন হয়। খেজুরের গুড়, যা পাটালি গুড় নামে পরিচিত। যশোর এই পাটালি
গুঁড়ের জন্য বিখ্যাত।
মাইকেল মধুসূদন দত্তর বাড়িযশোর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ি গ্রামে
কপোতাক্ষ নদে তীরে কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের বাড়ি। ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি
তিনি এ বাড়িতেই জন্মগ্রহণ করেন। কয়েকটি পুরনো দ্বিতল ও একতলা ভবন আছে এ
বাড়িতে। বর্তমানে এ বাড়িতে একটি জাদুঘর ও গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
জাদুঘরে আছে কবি পরিবারের ব্যবহৃত আসবাবপত্র। কবির জন্মদিনে এ গ্রামে বসে
মধুসূদন মেলা।
হাজী মুহম্মদ মুহসীনের ইমামবারাসদর উপজেলার রামনগর ইউনিয়নে অবস্থিত ৩০০ বছরের পুরনো মুরালি ইমামবারা।
এটি প্রতিষ্ঠা করেন হাজী মুহম্মদ মুহসীন। ইট দিয়ে নির্মিত আয়তাকার ভবনটি
উত্তর-দক্ষিণে ৬০ ফুট, পূর্ব-পশ্চিমে ৫০ ফুট। ভেতরের অংশে ১০টি পিলার দিয়ে
তিন সারিতে বিভক্ত। পিলারের পলেস্তরার ওপর কালো কালি দিয়ে আরবি লিপিতে
আল্লাহ, হাসান, হোসেন লেখা দৃষ্টিনন্দন ক্যালিগ্রাফি রয়েছে।
রাজবাড়ীঅতীতে যশোরে ছিল রাজা প্রতাপাদিত্যের রাজত্ব। যশোর শহরের কাছেই
রাজবাড়ী। যার অনেকটাই ধ্বংস হয়ে গেছে। এখনো আছে একটি শিবমন্দির, দশ
মহাবিদ্যা মন্দির, জোড়াজিং মন্দির।
ভরত ভায়নাকেশবপুর উপজেলা থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে বুড়িভদ্রা
নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত। একটি প্রত্নস্থল ভরত ভায়না। ১৯২২ সালে
প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ এটি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়। পাঁচ শতকের প্রাচীন একটি
বৌদ্ধমন্দির আছে এখানে। ধারণা করা হয় ভরত নামের কোনো এক পৌরাণিক রাজা এ
মন্দিরটি নির্মাণ করেছেন। এ ছাড়া গৌরীখোলা গ্রামে রয়েছে ভরত রাজার বাড়ি
হিসেবে পরিচিত প্রাচীন কিছু স্থাপনার ধ্বংসাবশেষ। যশোরে আছে বাংলাদেশ
বিমানবাহিনীর ঘাঁটি ও বিমানবন্দর। যশোরের সবচেয়ে প্রাচীন ভবন যশোর
কালেক্টরেটর বিল্ডিং। হামিদপুর গ্রামে আছে একটি প্রাচীন সানি মসজিদ। এটি
একটি প্রাচীন স্থাপত্যকলা, যা মুসলিম স্থাপনার নিদর্শন।
কিভাবে যাবেনঢাকা থেকে সড়ক ও আকাশপথে যশোর যাওয়া যায়। আবার ঢাকা থেকে সড়ক, রেল ও
নৌপথে খুলনা হয়ে যশোর যাওয়া যায়। যশোরের সাগরদাঁড়ি যেতে হলে যশোর থেকে
সরাসরি বাসে যাওয়া যায়। এ ছাড়া বিভিন্ন স্থানে যেতে বাস, ট্যাক্সি ও রিকশা
তো আছেই।
কোথায় থাকবেনশহরের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে আবাসিক হোটেল। এসি ও নন এসি সব রকম সুবিধা
এখানে আছে। সাগরদাঁড়িতে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের একটি মোটেল আছে।
সূত্রঃ নয়া নিগন্ত
খুলনা বিভাগের প্রাচীন জনপদ যশোর। কপোতাক্ষ নদের তীরে কবি মাইকেল
মধুসূদন দত্তের জন্মস্থান। নকশিকাঁথা আর জামতলার রসগোল্লার জন্য প্রসিদ্ধ
যশোর। এ ছাড়া এখানে আছে আরো কয়েকটি দর্শনীয় স্থান। যশোরে বিভিন্ন ধরনের
শস্যের ফলন হয়। খেজুরের গুড়, যা পাটালি গুড় নামে পরিচিত। যশোর এই পাটালি
গুঁড়ের জন্য বিখ্যাত।
মাইকেল মধুসূদন দত্তর বাড়িযশোর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ি গ্রামে
কপোতাক্ষ নদে তীরে কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের বাড়ি। ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি
তিনি এ বাড়িতেই জন্মগ্রহণ করেন। কয়েকটি পুরনো দ্বিতল ও একতলা ভবন আছে এ
বাড়িতে। বর্তমানে এ বাড়িতে একটি জাদুঘর ও গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
জাদুঘরে আছে কবি পরিবারের ব্যবহৃত আসবাবপত্র। কবির জন্মদিনে এ গ্রামে বসে
মধুসূদন মেলা।
হাজী মুহম্মদ মুহসীনের ইমামবারাসদর উপজেলার রামনগর ইউনিয়নে অবস্থিত ৩০০ বছরের পুরনো মুরালি ইমামবারা।
এটি প্রতিষ্ঠা করেন হাজী মুহম্মদ মুহসীন। ইট দিয়ে নির্মিত আয়তাকার ভবনটি
উত্তর-দক্ষিণে ৬০ ফুট, পূর্ব-পশ্চিমে ৫০ ফুট। ভেতরের অংশে ১০টি পিলার দিয়ে
তিন সারিতে বিভক্ত। পিলারের পলেস্তরার ওপর কালো কালি দিয়ে আরবি লিপিতে
আল্লাহ, হাসান, হোসেন লেখা দৃষ্টিনন্দন ক্যালিগ্রাফি রয়েছে।
রাজবাড়ীঅতীতে যশোরে ছিল রাজা প্রতাপাদিত্যের রাজত্ব। যশোর শহরের কাছেই
রাজবাড়ী। যার অনেকটাই ধ্বংস হয়ে গেছে। এখনো আছে একটি শিবমন্দির, দশ
মহাবিদ্যা মন্দির, জোড়াজিং মন্দির।
ভরত ভায়নাকেশবপুর উপজেলা থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে বুড়িভদ্রা
নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত। একটি প্রত্নস্থল ভরত ভায়না। ১৯২২ সালে
প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ এটি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়। পাঁচ শতকের প্রাচীন একটি
বৌদ্ধমন্দির আছে এখানে। ধারণা করা হয় ভরত নামের কোনো এক পৌরাণিক রাজা এ
মন্দিরটি নির্মাণ করেছেন। এ ছাড়া গৌরীখোলা গ্রামে রয়েছে ভরত রাজার বাড়ি
হিসেবে পরিচিত প্রাচীন কিছু স্থাপনার ধ্বংসাবশেষ। যশোরে আছে বাংলাদেশ
বিমানবাহিনীর ঘাঁটি ও বিমানবন্দর। যশোরের সবচেয়ে প্রাচীন ভবন যশোর
কালেক্টরেটর বিল্ডিং। হামিদপুর গ্রামে আছে একটি প্রাচীন সানি মসজিদ। এটি
একটি প্রাচীন স্থাপত্যকলা, যা মুসলিম স্থাপনার নিদর্শন।
কিভাবে যাবেনঢাকা থেকে সড়ক ও আকাশপথে যশোর যাওয়া যায়। আবার ঢাকা থেকে সড়ক, রেল ও
নৌপথে খুলনা হয়ে যশোর যাওয়া যায়। যশোরের সাগরদাঁড়ি যেতে হলে যশোর থেকে
সরাসরি বাসে যাওয়া যায়। এ ছাড়া বিভিন্ন স্থানে যেতে বাস, ট্যাক্সি ও রিকশা
তো আছেই।
কোথায় থাকবেনশহরের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে আবাসিক হোটেল। এসি ও নন এসি সব রকম সুবিধা
এখানে আছে। সাগরদাঁড়িতে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের একটি মোটেল আছে।
সূত্রঃ নয়া নিগন্ত
যশোর জেলার প্রাচীন ইতিহাস
বর্তমান যশোর জেলা প্রাচীনকালে বহু নদ-নদী দ্বারা বিভক্ত ছিল। নদী বিধৌত
এ অঞ্চলে মাঝি ও জেলে সম্প্রদায়ের কিছু বিচ্ছিন্ন উপনিবেশ গড়ে উঠেছিল।
খ্রিস্টীয় দ্বিতীয় শতকে টলেমীর মানচিত্রে দেখা যায়, বঙ্গীয় ব-দ্বীপের
দক্ষিণাঞ্চলের ভূ-ভাগ মূলত গঙ্গার দু’টি প্রধান শাখা পদ্মা ও ভাগীরথীর
বাহিত পলি দ্বারা গঠিত হয়েছিল। মহাভারত, রঘুবংশ এবং অন্যান্য পুরাণের
প্রাপ্ত বর্ণনায় দেখা যায়, বঙ্গীয় ব-দ্বীপের এই অংশটুকু প্রাচীনকালের দু’টি
শক্তিশালী রাজ্যের মধ্যে অবস্থিত ছিল। সু-প্রাচীন এ রাজ্য দু’টি হল
পশ্চিমবঙ্গের অমত্মর্গত সুহম বা রাধা এবং পূর্ববঙ্গের অমত্মর্গত বঙ্গ।
সুহাম বা রাধা তাম্রলিপি নামেও পরিচিত ছিল। স্ব-স্ব শাসকদের শক্তিমত্তা ও
ক্ষমতার উপর ভিত্তি করে মূলত রাজ্য দু’টির সীমানা নির্ধারিত হয়েছিল। এই
প্রক্রিয়ায় খ্রিস্টীয় ৫ম শতকে বর্তমান যশোর জেলা বঙ্গ রাজ্যের শাসনাধীনে
আসে।
খ্রিস্টীয় ১ম ও ২য় শতক
টলেমীর বর্ণনায় দেখা যায় যে, খ্রিস্টীয় প্রথম ও দ্বিতীয় শতকে বর্তমান
যশোর জেলাসহ বঙ্গীয় ব-দ্বীপের সম্পূর্ণ অংশ নিয়ে একটি শক্তিশালী রাজ্য গঠিত
হয়েছিল। এ রাজ্যের রাজধানী স্থাপিত হয়েছিল ‘গঙ্গা’ নামক স্থানে। তৎকালীন
সময়ে ‘গঙ্গা’ ছিল একটি বিখ্যাত রাজার নগরী। এ নগরীটি বিখ্যাত গঙ্গা নদীর
তীরে অবস্থিত ছিল। টলেমীর বর্ণনানুযায়ী রাজধানী শহরটি তাম্রলিপির
দক্ষিণ-পশ্চিমাংশে অবস্থিত ছিল। ঐ সময়ের ইতিহাস বেশ অস্পষ্টতার ধূম্রজালে
জড়ানো থাকায় যশোরের সঠিক ইতিহাস সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করা দূরহ
ব্যাপার। ১
গুপ্ত সাম্রাজ্য (খ্রিস্টীয় ৪র্থ শতক থেকে ৬ষ্ঠ শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত)
খ্রিস্টীয় ৪র্থ শতকের শুরম্নর দিকে বঙ্গদেশে বেশ কিছু স্বাধীন রাজ্য
বিসত্মারলাভ করেছিল। কিন্তু ভারতবর্ষের উত্তরাংশে গুপ্ত সাম্রাজ্যের
গোড়াপত্তনের সাথে সাথে এ সমসত্ম রাজ্যসমূহের স্বাধীন সত্তার বিলুপ্তি ঘটে।
এলাহাবাদে প্রাপ্ত (সত্মম্ভ) শিলালিপি থেকে দেখা যায় রাজা সমুদ্রগুপ্ত
(৩৪০-৩৮০ খ্রিঃ) বঙ্গদেশের পশ্চিম এবং উত্তরাঞ্চল গুপ্ত সাম্রাজ্যের
অমত্মর্ভুক্ত করেন। এমনকি সমতটের (পূর্ববঙ্গ) শাসনকর্তাও গুপ্ত সম্রাটের
সার্বভৌম কর্তৃত্বকে স্বীকার করে নিয়েছিলেন। এভাবে যশোর জেলাটি গুপ্ত
শাসকবর্গের অধীনে আসে এবং খুব সম্ভবত খ্রিস্টীয় ৬ষ্ঠ শতকের মাঝামাঝি সময়
পর্যমত্ম তাদের দ্বারাই শাসিত হয়। খ্রিস্টীয় ৬ষ্ঠ শতকের মাঝামাঝি সময়ে
গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতন ঘটে। এ সময় ভারতবর্ষের উত্তরাংশে বেশ কিছু সংখ্যক
স্বাধীন রাজ্যের জন্ম হয়। বঙ্গদেশেও দু’টি স্বাধীন রাজ্যের উদ্ভব ঘটে।
প্রথমটি ছিল বঙ্গ বা সমতট এবং দ্বিতীয়টি ছিল গৌড় । উত্তর ও পূর্ববঙ্গ এবং
পশ্চিবঙ্গের একটি অংশ ও তৎকালীন বঙ্গ তথা সমতট রাজ্যের অমত্মর্ভুক্ত হয়। এই
ধারাবাহিকতায় বর্তমান যশোর জেলা বঙ্গ রাজ্যের অধীনে আসে। ২
গোপচন্দ্র, ধর্মাদিত্য এবং শ্যামচার দেব (৫২৫-৫৭৫ খ্রিঃ)
ফরিদপুর জেলার নিকটবর্তী কোটালিপাড়া থেকে আবিষ্কৃত পাঁচটি এবং বর্ধমান
(ভারতে অবস্থিত) জেলা থেকে আবিষ্কৃত অপর একটি শিলালিপি থেকে এই রাজ্যেও
তিনজন শাসনকর্তা সম্পর্কে জানা যায়। তারা হলেন গোপচন্দ্র, ধর্মাদিত্য এবং
শ্যামচার দেব। তাদের নামের আগে যুক্ত ‘মহারাজা’ পদবি প্রমাণ করে যে তারা
প্রত্যেকেই ছিলেন স্বাধীন এবং ক্ষমতাধর নৃপতি। কিন্তু এ তিনজন রাজার
পারস্পারিক সম্পর্ক এবং তাদের উত্তরাধিকারের ক্রম সুস্পষ্টভাবে নির্ধারণ
করা সম্ভব হয়নি। পূর্ববঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চল বিশেষ করে সাভার (ঢাকা জেলা)
এবং (ফরিদপুর জেলা) থেকে বিপুল সংখ্যক স্বর্ণমুদ্রা পাওয়া যায়। এসব
স্বর্ণমুদ্রা থেকে ধারণা করা যায় যে, শ্যামচার দেবের পরেও এ অঞ্চলে বেশ
কয়েকজন রাজার অসিত্মত্ব ছিল। এ সমসত্ম রাজাগণ সম্ভবত বঙ্গ শাসন করতেন। তারা
শ্যামচার দেবের প্রতিষ্ঠিত রাজ্যের শেষ সময়কার রাজা ছিলেন। ইতিহাসে তাদের
সম্পর্কে স্পষ্ট এবং বিসত্মারিত ধারণা পাওয়া যায় নি। তবে এই রাজাগণের
দ্বারা প্রদত্ত ছয়টি অনুদান থেকে প্রাদেশিক প্রশাসন সম্পর্কে চমকপ্রদ তথ্য
পাওয়া যায়। এগুলো প্রমাণ করে যে, বঙ্গদেশে একটি স্বাধীন, শক্তিশালী এবং
স্থিতিশীল সরকার ব্যবস্থা ছিল যা জনগণের জন্য শামিত্ম ও সমৃদ্ধি নিয়ে
এসেছিল।
খ্রিস্টীয় ৬ষ্ঠ শতকের শেষ ভাগে চালুক্যের নৃপতি কীর্তিবর্মন (৫৬৭-৫৯৭
খ্রিঃ) বঙ্গ রাজ্য আক্রমণ করেন। মূলত কীর্তিবর্মনের আক্রমণের মধ্য দিয়েই
শ্যামচারদেবের উত্তরাধিকারীদের শাসনের অবসান ঘটে। কীর্তিবর্মন বঙ্গ বিজয়েরও
দাবি করেন। যদিও তার সফলতার প্রকৃতি এবং ব্যাপ্তি সম্পর্কে কিছুই জানা
যায়নি তবুও একথা বলা যায় যে, তার আক্রমণের মধ্য দিয়েই ‘বঙ্গ’ রাজ্যের পতনের
সূত্রপাত হয়।
খ্রিস্টীয় ৭ম শতকের সূচনালগ্নে বর্তমান যশোর জেলা খুব সম্ভবত গৌড়ের রাজা
শশাঙ্ক (৬০৬-৬৩৭/৩৮ খ্রিঃ) এর অধীনে আসে। শশাঙ্ক শুধুমাত্র উত্তরবঙ্গ ও
পশ্চিমবঙ্গকে একত্রিত করে একটি স্বাধীন রাজ্যেই প্রতিষ্ঠা করেন নি, তিনি
সমগ্র দক্ষিণ বিহার ও উড়িষ্যাতেও তার প্রভাব বিসত্মার করেছিলেন। কিন্তু
একথা নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয় যে, দক্ষিণবঙ্গ এবং পূর্ববঙ্গও শশাঙ্কের
সাম্রাজ্যের অধীনে ছিল। তবে পন্ডিতগণ এ অঞ্চলে ‘ভদ্র’ নামে অভিজাত একটি
পরিবারের কথা বলেন, যারা এ অঞ্চলের শাসনকর্তা ছিলেন। ৩
দর্শনীয় স্থান
| নাম | কিভাবে যাওয়া যায় | অবস্থান |
|---|---|---|
| ভবদহ | নওয়াপাড়া থেকে পাকা রাস্তা দিয়ে পায়রা ইউনিয়ন হয়ে গাড়ী বা মটর সাইকেল যোগে ভবদহ এলাকায়া যাওয়া যায়। | পায়রা ইউনিয়নে অবস্তিত |
| রুপ সনাতন ধাম, অভয়নগর | নওয়াপাড়া বাজার হতে মটর সাইকেল বা ট্রেকার যোগে সুন্দলী ইউনিয়নের রামসরা ধামে যাওয়া যায়। | সুন্দলী ইউনিয়নে অবস্তিত |
| নওয়াপাড়া পীরবাড়ী | নওয়াপাড়া বাসস্ট্যান্ড হতে ২০০ গজ দক্ষিণে নওপাড়া পীরবাড়ী দেখা যাবে।এখানে পীর সাহেবের মাজার, বিশালাকৃতির এতিমখানা ও পীরবাড়ী শাহী মসজিদ অবস্থিত। এখানে প্রতি সপ্তাহে ছু্টির দিনে প্রচুর লোকের সমাগম ঘটে। | নওয়াপাড়া পীরবাড়িটি নওয়াপাড়া শহের অবস্থিত। |
| পুড়াখালী বাওড় | নওয়াপাড়া বাজার হতে ভৈরব নদীর ফেরি পার হয়ে মটর সাইকেল,অটো রিক্সা,ভ্যান যোগে পুড়াখালী বাওড়ে যাওয়া যায়। | অভয়নগর উপজেলার শ্রীধরপুর ইউনিয়নে অবস্তিত |
| ঝাপা বাওড় | সড়ক পথে- ঢাকা থেকে ঢাকা-খুলনা জাতীয় মহাসড়কে যশোর অতিক্রম করে রাজার হাট নামক স্থান হতে সাতক্ষীরা রোডে প্রায় ১৪ কিঃমিঃ মণিরামপুর উপজেলা পরিষদ ।পরিষদ হতে রাজগঞ্জ বাজার সংলগ্ন ঝাপা বাওড় ১০ কি:মি: । যশোর পালবাড়ী থেকে রাজগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড হয়ে ২২কিঃমিঃ দক্ষিণে রাজগঞ্জ বাজার সংলগ্ন ঝাপা বাওড়। খুলনা ও সাতক্ষীর হতে খুলনা-সাতক্ষীরা রোডের চুকনগর নামক স্থান হতে যশোর দিকে ২৬কিঃ মণিরামপুর উপজেলা পরিষদ। পরিষদ হতে রাজগঞ্জ বাজার সংলগ্ন ঝাপা বাওড় ১০ কি:মি: । | মণিরামপুর,যশোর। |
| দমদম পীরের ডিবি | সড়ক পথে- ঢাকা থেকে ঢাকা-খুলনা জাতীয় মহাসড়কে যশোর অতিক্রম করে রাজার হাট নামক স্থান হতে সাতক্ষীরা রোডে প্রায় ০৭ কিঃমিঃ মণিরামপুর এর দিকে সড়ক সংলগ্র ভোজগাতী ইউপির অধীন। | মণিরামপুর,যশোর। |
| তুলা বীজ বর্ধন খামার | উপজেলা সদর থেকে ভ্যান, রিক্সায় বা ইজিবাইকে যাওয়া যায়। উপজেলা থেকে দূরত্ব ১০ কিমি। | জগদীশপুর ইউনিয়ন, চৌগাছা, যশোর |
| আকিজ জুট মিলস্ লিমিটেড | যশোর-খুলনা মহাসড়কের মধ্যবর্তী নওয়াপাড়া নামক স্হানে আকিজ জুট মিলটি অবস্হিত ।বাসযোগে যশোর হতে নওয়াপাড়া বাস স্ট্যান্ডে নেমে সেখান হতে ভ্যান বা রিক্সা যোগে আকিজ জুট মিলে যাওয়া যায়। | নওয়াপাড়া অভয়নগর,যশোর। |
| নওয়াপাড়া শহর ও ভৈরব নদী | ভৈরব নদীর তীরে শিল্প শহর নওয়াপাড়া বাজার অবস্হিত। মেইন রাস্তা হতে ১০০ গজ হেটে গেলেই ভৈরব নদী দেখা যাবে। এই নদী পাশ ঘেষেই গড়ে উঠেছে শিল্পশহর নওয়াপাড়া বাজার।এই নদীতে প্রতিনিয়ত জাহাজ বা কার্গোতে দেশ বিদেশ হতে বিভিন্ন প্রকার মালামাল আনা-নেওয়া করা হয়। | নওয়াপাড়া বাজার, অভয়নগর,যশোর। |
| ১১ শিব মন্দির,অভয়নগর | অভয়নগর শহর হতে ভৈরব নদী পার হয়ে মটরসাইকেল বা ট্রেকারযোগে বাঘুটিয়া ইউনিয়নে গেলেই প্রাচীন এতিহ্য ১১ শিব মন্দির দেখতে পাওয়া যাবে। | বাঘুটিয়া,অভয়নগর,যশোর। |
| খড়িঞ্চা বাওড় | চৌগাছা উপজেলার সদর হতে ৮ কি.মি দূরে চৌগাছা-পূড়াপাড়া পাকা সড়কের দক্ষিণ পাশে খড়িঞ্চা গ্রামে অবস্হিত। | খড়িঞ্চা, চৌগাছা, যশোর। |
| গদাধরপুর বাওড় | চৌগাছা উপজেলার সদর হতে ৮ কি.মি দূরে চৌগাছা-মাশিলা সড়কের দক্ষিণ পাশে গদাধারপুর গ্রামে সীমান্তের শূন্য লাইনে অবস্হি । | গদাধরপুর, চৌগাছা, যশোর |
| যাত্রাপুর ইউনিয়ন ইউনিয়ন পরিষদ | চৌগাছা উপজেলার সদর হতে পূর্ব দিকে ১কি:মি:নবীপুর স্টেশন হতে উওর দিকে শ্রীকাইল-নবীপুর রোডে ৪ কিমি: গেলেই মোচাগড়ায় ইউনিয়ন পরিষদ ভবন। | গদাধরপুর, চৌগাছা, যশোর |
| মহাকবি মাইকেল মধু সূদন দত্তের বাড়ি | সড়ক পথে- ঢাকা থেকে ঢাকা-খুলনা জাতীয় মহাসড়কে যশোর অতিক্রম করে রাজার হাট নামক স্থান হতে সাতক্ষীরা রোডে প্রায় ৩৬ কিঃমিঃ কেশবপুর উপজেলা পরিষদ ।পরিষদ হতে কেশবপুর টু সাগরদাঁড়ী প্রায় ১৬ কি:মি: অতিক্রম করে মহাকবি মাইকেল মধুসূধন দত্তের পৈত্রিক জন্ম ভূমি। | সাগরদাঁড়ী ইউনিয়নে |
| মধুপল্লী | সড়ক পথে- ঢাকা থেকে ঢাকা-খুলনা জাতীয় মহাসড়কে যশোর অতিক্রম করে রাজার হাট নামক স্থান হতে সাতক্ষীরা রোডে প্রায় ৩৬ কিঃমিঃ কেশবপুর উপজেলা পরিষদ ।পরিষদ হতে কেশবপুর টু সাগরদাঁড়ী প্রায় ১৬ কি:মি: অতিক্রম করে মহাকবি মাইকেল মধুসূধন দত্তের পৈত্রিক জন্ম ভূমি। | সাগরদাড়ি |
| ভরতের দেউল | কেশবপুর উপজেলা সদর হতে ঊনিশ কি.মি দক্ষিণ-পর্ব দিকে ভদ্রা নদীর তীরে ভরতের দেউল অবস্থিত | ভরত ভায়না, কেশবপুর, যশোর |
| মীর্জানগর হাম্মামখানা | কেশবপুর হতে ৭ কি.মি. পশ্চিমে কপোতাক্ষী ও বুড়িভদ্রা নদীর সঙ্গমস্থল ত্রিমোহিনী নামক স্থানে | ত্রিমোহিনী, কেশবপুর, যশোর |
| ধীরাজ ভট্রাচার্যের বাড়ি | কেশবপুর হতে ৭কি.মি দুরে পাঁজিয়া গ্রামে অবস্থিত | পাঁজিয়া গ্রামে |
| কালুডাংগা মন্দির | এই মন্দির দোহাকুলা ইউনিয়নে অবস্থিত।বাঘারপাড়া হতে বালিডাংগা বাজার পৌঁছে তালতলা যেতে হবে। তালতলা হতে বামদিকে ৫০০গজ দূরত্বে কালুডাংগা মন্দির অবস্থিত।বাঘারপাড়া হতে যে কোন যানবাহনে যাওয়া যায়। | বাঘারপাড়া |
| চাঁচড়ার মৎস উৎপাদন কেন্দ্র | চাঁচড়া ইউনিয়ন পরিষদ থেকে মাত্র তিন কিলোঃ মিটার দূরে চাঁচড়ার মৎস উৎপাদন কেন্দ্রটি অবস্থিত।১০ নং চাঁচড়া ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ভ্যান/ইজিবাইক/বাস এ করে যাওয়া যায়। | চাঁচড়া |
| বেনাপোল স্থল বন্দর | যশোর থেকে গাড়ী,বাস অথবা অটোতে করে শার্সা উপজেলায় যেতে হয়।শার্শায় বেনাপোল বন্দর অবস্থিত। | বেনাপোল, শার্শা, যশোর |
| বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদের মাজার। | যশোর বেনাপোল সড়ক থেকে শার্শা উপজেলা থেকে উত্তরের রাস্তা ধরে ডিহি ইউনিয়নের যাওয়ার পরে রিকশা করে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদের মাজারে পৌছানো যাবে । | ডিহি, শার্শা, যশোর |
| চাঁচড়া রাজবাড়ী | চাঁচড়া ইউনিয়ন পরিষদ থেকে মাত্র চার কিলোঃ মিটার দূরে চাঁচড়ার রাজবাড়ী অবস্থিত । ১০ নং চাঁচড়া ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ভ্যান/ইজিবাইক/বাস এ করে যাওয়া যায়। | চাঁচড়া বাজারের আশে পাশে। |
| যশোরের বধ্যভূমি | যশোর শহর থেকে শঙ্করপুর বধ্যভূমি | চাঁচড়া, যশোর |
| যশোর বোট ক্লাব | নিউমার্কেট থেকে পালবাড়ি অথবা সরাসরি অটোরিকশা অথবা গাড়ি যোগে যাওয়া যেতে পারে। | যশোর এয়ারপোর্ট সংলগ্ন |
| বিনোদিয়া ফ্যামিলি পার্ক | পালবাড়ি মোড় থেকে বোট ক্লাবের দিকে অগ্রসর হলে একই রাস্তায় পাওয়া যায়। | বোট ক্লাব প্রধান সড়কের বিপরীত দিকে অবস্থিত |
| গদখালীর ফুলের বাগান এবং সবজির ক্ষেত | ঝিকরগাছা |

No comments